টাকা দেওয়ার আগেই দিন-ভিত্তিক প্ল্যান
কোন দিনে কী হবে, কোথায় থাকবেন, আর কী কী ধরা নেই, এক টাকা দেওয়ার আগেই সব লিখে দেখে নিতে পারবেন।
পুজো আর লম্বা ছুটির গাড়ি আগেই শেষ হয়ে যায়। তারিখটা এখনই বলে রাখুন।
বাড়ি থেকে পিকআপ · ফিক্সড ডিপার্চার নয়, আপনার তারিখ
গাড়ি, থাকা আর ঘোরা সব একসঙ্গে, আর পিকআপ ব্যারাকপুর, সোদপুর বা দমদমে আপনার বাড়ি থেকেই। “সকাল ৯টায় এনজেপি-তে পৌঁছে যান” নয়, অচেনা দলের সঙ্গেও নয়, আর ছুটি বদলে বাঁধা তারিখ ধরার দরকারও নেই।

আমাদের প্যাকেজ কীভাবে চলে
এগুলো বাস ট্যুর নয়। নিচের সবকিছু একবারে একটি পরিবার বা একটি দলের জন্যই তৈরি।
কোন দিনে কী হবে, কোথায় থাকবেন, আর কী কী ধরা নেই, এক টাকা দেওয়ার আগেই সব লিখে দেখে নিতে পারবেন।
ট্রিপ আপনার গেটে শুরু, আপনার গেটেই শেষ। দু’দিকেই স্টেশনের ছোটাছুটি নেই, ট্যুর ধরতে আলাদা ক্যাবও নেই।
আপনার ছুটি আর পরিবার ধরে ইটিনেরারি বানাই। তৃতীয় দিন বিশ্রামের দিন হওয়া দরকার হলে, সেটা বিশ্রামের দিনই।
বুকিংয়ের আগেই প্রপার্টির নাম বা ক্যাটেগরি বলি, যাতে নিজে দেখে নিতে পারেন। “থ্রি-স্টার সমান” ধোঁয়াশা নয়।
সেডানে চার জন থেকে বাসে পঞ্চাশ জন। স্কুল ট্রিপ, অফিস আউটিং, মন্দিরের দল আর বড় পরিবারের ছুটি।
যিনি প্ল্যান করেছেন, ট্রিপের সময়েও তাঁকেই পাবেন। দ্বিতীয় দিনে কিছু হলে কাকে ফোন করবেন সেটা আগেই জানা।
প্যাকেজে কী থাকে
ট্যুরে কী ধরা আছে তার চেয়ে কী ধরা নেই, সেটা বেশি জরুরি। তাই ওগুলো ছোট অক্ষরে নয়, আপনার প্ল্যানেই লেখা থাকে।
দামে ধরা আছে
আলাদা লাগবে, আগেই বলে দেওয়া হয়
আমরা রেট কার্ড দেখে দাম বলি না, প্রতিটা ট্রিপের আলাদা দাম বলি। তাই সব মিলিয়ে একটাই দাম লিখে পাবেন। উপরে যা লেখা নেই, সেটা আপনাকে না জানিয়ে পরে যোগ হয় না।
কীভাবে চলে
কোথায় যেতে ইচ্ছে, কত দিন ছুটি, কত জন, আর থাকার মান মোটামুটি কেমন।
রুট, কত রাত, কী কী ঘোরা হবে আর কী ধরা নেই, সঙ্গে সব মিলিয়ে একটাই দাম লিখে।
একটা রাত বদলান, বিশ্রামের দিন যোগ করুন, হোটেল আপগ্রেড করুন। পরিবারের সঙ্গে মিলে যাওয়া পর্যন্ত প্ল্যান বদলায়।
অ্যাডভান্সে হোটেল আর গাড়ি ব্লক হয়। রওনার আগেই ড্রাইভারের তথ্য পৌঁছে যায়।
নমুনা দিন-ভিত্তিক প্ল্যান
এগুলো শুধু শুরুর প্ল্যান, বাঁধা প্যাকেজ নয়। দাম দেখার আগেই আপনার তারিখ, দল আর বাজেট ধরে প্ল্যান নতুন করে সাজিয়ে দেওয়া হয়।
দিন ১ — বাড়ি থেকে পাহাড়
ব্যারাকপুর বা সোদপুর থেকে পিকআপ, রাতের ট্রেন বা গাড়িতে এনজেপি, তারপর দার্জিলিং উঠে বিশ্রাম।
দিন ২ — দার্জিলিং
টাইগার হিলের সূর্যোদয়, বাতাসিয়া লুপ, ঘুম মনাস্ট্রি, ম্যাল আর সিট থাকলে টয় ট্রেন।
দিন ৩ — দার্জিলিং থেকে গ্যাংটক
চা বাগানে থামা, তারপর বিকেলে গ্যাংটক আর এমজি মার্গে সহজ সন্ধ্যা।
দিন ৪ — গ্যাংটক
পারমিট নিয়ে ছাঙ্গু লেক ও বাবা মন্দির, রাস্তা বন্ধ থাকলে হালকা লোকাল সাইটসিইং।
দিন ৫ — বাড়ি
এনজেপি বা বাগডোগরায় নেমে আসা, তারপর সোজা আপনার গেট।
দিন ১ — পুরীর পথে
বাড়ি থেকে পিকআপ, গাড়ি বা ট্রেনে পুরী, চেক-ইন, সন্ধ্যা সমুদ্রে।
দিন ২ — জগন্নাথ দর্শন
কিউয়ের সময় বুঝে ভোরের দর্শন, তারপর সমুদ্রের পাশে ধীর দুপুর।
দিন ৩ — কোনারক ও চন্দ্রভাগা
সূর্য মন্দির, চন্দ্রভাগা সৈকত, চাইলে চিলিকা।
দিন ৪ — বাড়ি
সকালটা নিজের মতো, তারপর ফেরার পথ আপনার গেট পর্যন্ত।
দিন ১ — বাড়ি থেকে দীঘা
সকালে পিকআপ, দুপুরের মধ্যে পৌঁছে সন্ধ্যায় ওল্ড আর নিউ দীঘা।
দিন ২ — মন্দারমণি ও তাজপুর
সৈকতের পথে ড্রাইভ, তাজপুরের লাল কাঁকড়া, সি-ফুড, রাতে ফেরা।
দিন ৩ — বাড়ি
সময় থাকলে মেরিন অ্যাকোয়ারিয়াম বা শঙ্করপুর, তারপর সন্ধ্যায় বাড়ি।
দিন ১ — কলকাতা থেকে পোর্ট ব্লেয়ার
বাড়ি থেকে গাড়িতে কলকাতা এয়ারপোর্ট, প্লেনে পোর্ট ব্লেয়ার, হোটেলে চেক-ইন, সন্ধ্যায় সেলুলার জেল আর লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো।
দিন ২ — হ্যাভলক (স্বরাজ দ্বীপ)
সকালের ফেরিতে হ্যাভলক, চেক-ইন, তারপর রাধানগর বিচে সূর্যাস্ত।
দিন ৩ — হ্যাভলক
বোটে এলিফ্যান্ট বিচ, সমুদ্র শান্ত থাকলে স্নরকেলিং বা গ্লাস বটম বোট, হালকা বিকেল।
দিন ৪ — নীল আইল্যান্ড (শহিদ দ্বীপ)
ফেরিতে ওপারে, ভরতপুর আর লক্ষ্মণপুর বিচ, আর প্রাকৃতিক পাথরের সেতু।
দিন ৫ — ফিরে পোর্ট ব্লেয়ার
ফেরিতে ফেরা, রস আইল্যান্ড বা করবিনস কোভ, আর আবেরদিন বাজারে কেনাকাটার সময়।
দিন ৬ — বাড়ি
প্লেনে কলকাতা, আর আমাদের গাড়ি আপনাকে গেটে পৌঁছে দেয়।
দিন ১ — দর্শন
ভোরে পিকআপ, ইসকন মায়াপুর, চন্দ্রোদয় মন্দির, গঙ্গার ঘাট আর ওপারে নবদ্বীপ।
দিন ২ — ইচ্ছে হলে রাত্রিবাস
সকালের আরতির জন্য থেকে গিয়ে তাড়াহুড়ো ছাড়া দ্বিতীয় দিন।
প্যাকেজ প্রশ্ন
না। প্রতিটি ট্রিপ প্রাইভেট আর আপনার তারিখ ধরে তৈরি। উপরের নমুনা প্ল্যান শুরুর জায়গা, ঢুকে পড়ার মতো প্রোডাক্ট নয়।
হ্যাঁ। হোটেলের নাম বা কয়েকটা নাম আপনার প্ল্যানেই থাকে, যাতে কিছু পাকা হওয়ার আগে নিজে দেখে নিতে পারেন।
হ্যাঁ। অনেকেই শুধু গাড়ি আর ড্রাইভার নেন, থাকাটা নিজেরা দেখেন। বললে শুধু গাড়ির দাম বলে দিই।
ব্যবস্থা করা যায়, আর করলে সেটা প্ল্যানে আলাদা করে লেখা থাকে। টিকিট অ্যাভেলেবিলিটি সাপেক্ষে আর অ্যাকচুয়ালসে ধরা হয়।
হ্যাঁ। পোর্ট ব্লেয়ার, হ্যাভলক আর নীল আইল্যান্ড নিয়ে আন্দামান ট্রিপ করি। প্লেনের টিকিট, দ্বীপের ফেরি, হোটেল, পারমিট আর দু’দিকের এয়ারপোর্ট গাড়ি আমরাই ব্যবস্থা করি, আর টাকা দেওয়ার আগেই দিন ধরে প্ল্যান লিখে দিই।
অক্টোবর থেকে মে সবচেয়ে সহজ সময়। তখন ফেরি বেশি ভরসার। বর্ষায় সমুদ্র খারাপ থাকলে দ্বীপে যাওয়া বন্ধ হতে পারে, তাই তখন দ্বীপের দিন কম রাখি।
নিয়মিতই করি, টেম্পো ট্রাভেলার আর বাস দিয়ে। কতজন যাবে আর কেমন দেখাশোনা দরকার বলুন, সেই অনুযায়ী প্ল্যান হবে।
তবুও ভাবছেন? তারিখটা পাঠিয়ে দিন। না পারলে সোজা বলে দেব
পরিষেবা
ট্যুর প্যাকেজ
কোথায় যেতে চান, কত দিন আর কতজন যাচ্ছেন বলুন। দিন ধরে প্ল্যান আর সব মিলিয়ে একটাই দাম ফেরত পাবেন।