বাওয়ালি
ঠিকঠাক এক দিনের ঘোরার সবচেয়ে কাছের জায়গা। তিনশো বছরের পুরনো জমিদার বাড়ি, সারিয়ে হোটেল করা হয়েছে, উঠোন-থাম-পুকুর সব আছে। শুধু দুপুরের খাওয়া আর একটু ঘোরার জন্যও যাওয়া যায়, রাতে থাকতেই হবে না।
পুজো আর লম্বা ছুটির গাড়ি আগেই শেষ হয়ে যায়। তারিখটা এখনই বলে রাখুন।
ঘোরার গাইড
এক দিনের ট্রিপ একটাই কারণে খারাপ হয়, মানুষ দেরি করে বেরোয়। এই তালিকার সব জায়গা কলকাতা থেকে ৯০ কিলোমিটারের মধ্যে, তাই সকাল ৭টায় গাড়ি ছাড়লে জায়গায় চার-পাঁচ ঘণ্টা পাওয়া যায় আর রাতে ফিরে আসা যায়। ১০টায় বেরোলে একই ট্রিপ শুধু গাড়ি চড়া আর মাঝে একটা খাওয়া হয়ে দাঁড়ায়।
ঘোরার গাইড
ঘোরার গাইড
দূরত্ব মধ্য কলকাতা থেকে রাস্তার দূরত্ব, রুট ডেটা দেখে মিলিয়ে নেওয়া।
ঠিকঠাক এক দিনের ঘোরার সবচেয়ে কাছের জায়গা। তিনশো বছরের পুরনো জমিদার বাড়ি, সারিয়ে হোটেল করা হয়েছে, উঠোন-থাম-পুকুর সব আছে। শুধু দুপুরের খাওয়া আর একটু ঘোরার জন্যও যাওয়া যায়, রাতে থাকতেই হবে না।
হুগলির ধারে পুরনো ফরাসি শহর। বিকেলে স্ট্র্যান্ডে হাঁটুন, স্যাক্রেড হার্ট গির্জা আর নন্দদুলাল মন্দির দেখুন, জলভরা সন্দেশ খান। সকালের চেয়ে বিকেল-সন্ধের ট্রিপ হিসেবে ভালো।
যেখানে হুগলি এত চওড়া হয়ে যায় যে সমুদ্রের মতো লাগে। দেড় ঘণ্টার রাস্তা, নদীর ধারে দুপুরের খাওয়া, ভাটার সময় পুরনো পোর্তুগিজ কেল্লার ভাঙা অংশ, তারপর ফেরা। ছোট বাচ্চা নিয়ে এই তালিকার সবচেয়ে সহজ ট্রিপ।
দামোদর আর হুগলি যেখানে মেশে, সঙ্গে লকগেট, হরিণ পার্ক আর অনেক ফাঁকা মাঠ। কলকাতার চেনা পিকনিক স্পট, তাই ফাঁকা চাইলে কাজের দিনে যান।
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এখানে লিখতেন, সামতাবেড়ের বাড়িটা যেমন ছিল তেমনই রাখা আছে। চারপাশে রূপনারায়ণ নদী, শীতে সর্ষে খেত, আর প্রায় কোনো ভিড় নেই। একটা শান্ত আধবেলার জন্য ভালো।
তারকনাথ মন্দির, সোমবার আর শ্রাবণ মাসে সবচেয়ে ভিড়। অনেকে সঙ্গে কামারপুকুর আর জয়রামবাটি জুড়ে নেন, আরও ৩০-৪০ কিলোমিটার, তাতেও রাতে ফেরা যায়।
ইছামতীর ধারে, ওপারে বাংলাদেশ। নৌকায় ঘোরা, গোলপাতার জঙ্গল আর জমিদার বাড়ির ভাঙা অংশ। শীতে সূর্য ডোবার সময় নদীর পাড়টাই আসল কারণ।
তিনটে নদী এখানে মেশে, হুগলি, রূপনারায়ণ আর দামোদর, জল খুব চওড়া। একটা ছোট ট্যুরিস্ট লজ আর মাছ দিয়ে দুপুরের খাওয়া, ট্রিপ এটুকুই। শেষ অংশের রাস্তা ধীর, তাই সকাল ৭টার মধ্যে বেরোন।
এদের প্রায় সবের কাছেই কোনো স্টেশন আছে, কিন্তু ঠিক জায়গায় নয়। স্টেশন থেকে টোটো বা অটো লাগে, ফেরার সময় আবার একটা, আর শেষ গাড়িটা যত ভাবছেন তার আগেই ছেড়ে দেয়। গাড়িতে দিনটা আপনার: যেখানে চান চা খেতে দাঁড়ালেন, ব্যাগ ডিকিতে রইল, বাচ্চারা ক্লান্ত হলে ৬টা ২০-র ট্রেনের অপেক্ষা না করে বিকেল ৪টাতেই ফেরা শুরু।
আপনি ক’টায় ঘরে ফিরতে চান, সেখান থেকে পিছন দিকে হিসেব করি। ৬০ কিলোমিটার দূরের জায়গা হলে সকাল ৭টায় ছাড়ি, ৯টায় পৌঁছি, চার ঘণ্টা থাকি, ৩টায় বেরিয়ে অন্ধকারের আগেই ফেরা। ৯০ কিলোমিটার হলে সাড়ে ৬টায় ছাড়ি। গাড়িতে বয়স্ক কেউ বা ছোট বাচ্চা থাকলে এক টানে না গিয়ে দুবার ঠিকমতো দাঁড়াই।
ঘোরার গাইড
ছোট কয়েকটা কথা, যার উপর নির্ভর করে দিনটা ভালো কাটবে না ক্লান্তিতে যাবে।
গড়চুমুক, গাদিয়াড়া আর ডায়মন্ড হারবারে রবিবার ভিড়ের দিন। কাজের দিনে যেতে পারলে একই জায়গা দ্বিগুণ ফাঁকা লাগে।
এই সব জায়গায় দুপুরের খাওয়া ১টার আগে সেরে নিন। নদীর ধারের দোকানগুলো মাপা রান্না করে, শেষ হলে বন্ধ।
হাতে কিছু নগদ রাখুন। এখানকার অনেক লজ, ফেরিঘাটের কাউন্টার আর ছোট দোকানে ছুটির দিনে ইউপিআই ঠিকমতো চলে না।
এখানে দূরত্ব আর সময় রুট ডেটা দেখে মিলিয়ে নেওয়া, তারপর সত্যিকারের যানজট ধরে একটু বাড়িয়ে লেখা। সময়, ফেরির সময় আর ঢোকার নিয়ম সিজন অনুযায়ী বদলায়, তাই যাওয়ার আগের দিন একবার জিজ্ঞেস করুন, সেই সপ্তাহে রাস্তা কেমন আমরা বলে দেব।
ঘোরার গাইড
আমাদের তালিকায় এই গাইডের সঙ্গে মেলে এমন ট্রিপ। গাড়ি বাড়ির সামনে থেকে ছাড়ে।
ঘোরার গাইড
এক দিনের ট্রিপ ভালো হয় যদি গাড়ি সকালে আপনার পাড়া থেকেই বেরোয়।
প্রশ্ন
ছোট বাচ্চা বা বয়স্ক বাবা-মা থাকলে ডায়মন্ড হারবার বা বাওয়ালি, কারণ রাস্তা দুই ঘণ্টার কম আর বসে খাওয়ার ঠিক জায়গা আছে। বড় বাচ্চারা হাঁটতে চাইলে চন্দননগর বা টাকি। দল বেঁধে ফাঁকা মাঠ আর নিজেদের রান্না চাইলে গড়চুমুক।
৫০ থেকে ৯০ কিলোমিটার দূরের যে কোনো জায়গার জন্য বাড়ি থেকে বাড়ি প্রায় বারো ঘণ্টা ধরে রাখুন। এক দিকে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা, মাঝে একবার দাঁড়ানো, জায়গায় চার-পাঁচ ঘণ্টা, বাকিটা শহর থেকে বেরোনো আর ঢোকার যানজট।
হ্যাঁ, আর এই ট্রিপগুলোর বেশিরভাগে সেটাই ভালো। আমরা ব্যারাকপুরের দিকের লোক, তাই সোদপুর, খড়দহ, টিটাগড়, দমদম বা বারাসতে সকাল ৭টার আগেই গাড়ি পৌঁছে যায়, শহরের জ্যাম পেরোনোর দাম আপনাকে দিতে হয় না।
তবুও ভাবছেন? তারিখটা পাঠিয়ে দিন। না পারলে সোজা বলে দেব
ঘোরার গাইড
গাড়ি লাগবে
তারিখ আর কত জন যাচ্ছেন লিখে পাঠান। কোন গাড়িতে হবে, ক’টায় বেরোনো ভালো আর পুরো দাম লিখে জানিয়ে দিই, তারপর আপনি ঠিক করবেন।