দক্ষিণেশ্বর আর বেলুড় মঠ
আমাদের দিকের চেনা আধবেলা: সকালে দক্ষিণেশ্বর, ফেরি বা বিবেকানন্দ সেতু দিয়ে পার, তারপর বেলুড় মঠ। ব্যারাকপুর থেকে ৪০ মিনিটের রাস্তা, তাই চার ঘণ্টার গাড়িতেই হয়ে যায়।
পুজো আর লম্বা ছুটির গাড়ি আগেই শেষ হয়ে যায়। তারিখটা এখনই বলে রাখুন।
ঘোরার গাইড
মন্দির দর্শনের বুকিং আমাদের কাছে সবচেয়ে বেশি আসে, আর ভুলটা প্রায় সবসময় দিন নিয়ে, দূরত্ব নিয়ে নয়। শ্রাবণের সোমবার তারকেশ্বরে গেলে তিন ঘণ্টা দাঁড়াতে হবে। বৃহস্পতিবার গেলে কুড়ি মিনিটে বেরিয়ে আসবেন। এখানের দূরত্ব মধ্য কলকাতা থেকে, আর কয়েকটা আমাদের দিক থেকে আরও কাছে।
ঘোরার গাইড
ঘোরার গাইড
দূরত্ব মধ্য কলকাতা থেকে রাস্তার দূরত্ব, রুট ডেটা দেখে মিলিয়ে নেওয়া।
আমাদের দিকের চেনা আধবেলা: সকালে দক্ষিণেশ্বর, ফেরি বা বিবেকানন্দ সেতু দিয়ে পার, তারপর বেলুড় মঠ। ব্যারাকপুর থেকে ৪০ মিনিটের রাস্তা, তাই চার ঘণ্টার গাড়িতেই হয়ে যায়।
তারকনাথ মন্দির, সোমবার আর পুরো শ্রাবণ মাসে ঠাসা ভিড়। অনেকে সঙ্গে ৯৪ কিলোমিটারের কামারপুকুর আর ১০১ কিলোমিটারের জয়রামবাটি জুড়ে এক দিনেই পুরোটা সেরে নেন।
ব্যারাকপুর থেকে মাত্র ১০৪ কিলোমিটার, তাই আমাদের দিক থেকে এক দিনেই হয়। সকাল-সন্ধের আরতি, মন্দিরের চত্বর, আর ফেরিতে নদীর ওপারে নবদ্বীপ। রাস পূর্ণিমা আর জন্মাষ্টমীতে খুব ভিড়।
দুটোই শান্তিনিকেতনের কাছে, তাই বেশিরভাগ লোক বোলপুরের ট্রিপের সঙ্গেই সারেন। বক্রেশ্বরে উষ্ণ প্রস্রবণ, কঙ্কালীতলায় কুণ্ড আর সতীপীঠ।
একটা নয়, ডজনখানেক টেরাকোটা মন্দির: রাসমঞ্চ, জোড়বাংলা, শ্যামরাই, মদনমোহন। কয়েক কিলোমিটার জুড়ে ছড়ানো, তাই সারা দিনের গাড়ি লাগে।
তারা মায়ের মন্দির আর দ্বারকা নদীর শ্মশান। এক দিকে চার-পাঁচ ঘণ্টা, তাই হয় ভোর ৫টায় বেরিয়ে রাতে ফেরা, নয়তো এক রাত থেকে সঙ্গে শান্তিনিকেতন।
গাড়িতে লট ৮ ঘাট, লঞ্চে কচুবেড়িয়া, তারপর গাড়িতে কপিল মুনির মন্দির। জানুয়ারির মকর সংক্রান্তিতে লাখ লাখ লোক, তাই ওই সময়ের ট্রিপ আমরা একেবারে আলাদা ভাবে সাজাই।
যে জোড়াগুলো হয়: দক্ষিণেশ্বর আর বেলুড়, আধবেলা। তারকেশ্বর, কামারপুকুর আর জয়রামবাটি, লম্বা এক দিন। মায়াপুর আর নবদ্বীপ, আমাদের দিক থেকে এক দিন। শান্তিনিকেতনের সঙ্গে কঙ্কালীতলা-বক্রেশ্বর, বা তারাপীঠ, দুই দিন। যা হয় না, সেটা একই দিনে তারাপীঠ আর মায়াপুর, কারণ দুটো আলাদা রাস্তায়।
সেডান বা এমইউভি চান, যেটায় পা রাখার জায়গা বেশি উঁচু নয়, হুইলচেয়ার বা লাঠি সঙ্গে থাকলে বলুন, আর পুলিশ যতটা দেয় ততটা গেটের কাছে আমরা গাড়ি রাখি। দর্শনটাও সকালের দিকে রাখি, কারণ দুপুরে লাইন বড় হয় আর পাথরের মেঝে গরম থাকে।
ঘোরার গাইড
ছোট কয়েকটা কথা, যার উপর নির্ভর করে দিনটা ভালো কাটবে না ক্লান্তিতে যাবে।
তারকেশ্বরে সোমবার, অনেক কালীমন্দিরে শনি আর মঙ্গলবার, আর পুরো শ্রাবণ মাস ভিড়ের সময়। তারিখ ঠিক করার আগে জিজ্ঞেস করুন।
বেশিরভাগ মন্দির দুপুরে বন্ধ থাকে। ১১টার আগে বা ৪টের পরে পৌঁছন।
জুতো, ফোন আর ব্যাগ গাড়িতে রাখুন। প্রায় সব মন্দিরের কাউন্টারে ওগুলো রাখার পয়সা লাগে আর ওখানের লাইনটাও আলাদা সময় নেয়।
এখানে দূরত্ব আর সময় রুট ডেটা দেখে মিলিয়ে নেওয়া, তারপর সত্যিকারের যানজট ধরে একটু বাড়িয়ে লেখা। সময়, ফেরির সময় আর ঢোকার নিয়ম সিজন অনুযায়ী বদলায়, তাই যাওয়ার আগের দিন একবার জিজ্ঞেস করুন, সেই সপ্তাহে রাস্তা কেমন আমরা বলে দেব।
ঘোরার গাইড
আমাদের তালিকায় এই গাইডের সঙ্গে মেলে এমন ট্রিপ। গাড়ি বাড়ির সামনে থেকে ছাড়ে।
ঘোরার গাইড
এক দিনের ট্রিপ ভালো হয় যদি গাড়ি সকালে আপনার পাড়া থেকেই বেরোয়।
প্রশ্ন
হ্যাঁ, সকালে বেরোলে হয়। ব্যারাকপুরের দিক থেকে আমরা সাধারণত ৭টায় দক্ষিণেশ্বর, সাড়ে ৯টায় বেলুড়, আর দুপুরের বিরতির আগে ১২টায় কালীঘাট করি। পুরো দিন শহরে গাড়ি চলে, তাই আট থেকে দশ ঘণ্টার জন্য গাড়ি নিন।
রাস্তায় প্রায় ২২৪ কিলোমিটার, ব্যারাকপুর থেকে প্রায় ২২২ কিলোমিটার, এক দিকে চার-পাঁচ ঘণ্টা। এক দিনে করতে চাইলে ভোর ৫টায় বেরোতে হয়; বেশিরভাগ পরিবার এক রাত থেকে সঙ্গে শান্তিনিকেতন জুড়তে পছন্দ করেন।
তবুও ভাবছেন? তারিখটা পাঠিয়ে দিন। না পারলে সোজা বলে দেব
ঘোরার গাইড
গাড়ি লাগবে
তারিখ আর কত জন যাচ্ছেন লিখে পাঠান। কোন গাড়িতে হবে, ক’টায় বেরোনো ভালো আর পুরো দাম লিখে জানিয়ে দিই, তারপর আপনি ঠিক করবেন।