পুজো আর লম্বা ছুটির গাড়ি আগেই শেষ হয়ে যায়। তারিখটা এখনই বলে রাখুন।

ঘোরার গাইড

কলকাতার কাছে অফবিট জায়গা, যেগুলো এখনও ফাঁকা

অফবিট মানে দূর নয়। সাধারণত মানে জায়গাটায় হোটেলের সারি নেই, তাই ট্যুর অপারেটররা এটা বিক্রি করে না। এই আটটা ঠিক সেই রকম: নদীর পাড়, ভাঙা কিছু, এক টুকরো জঙ্গল বা দ্বীপ, যেখানে দশজন মানুষ পাবেন, হাজার জন নয়। কয়েকটায় ঠিকঠাক শৌচাগার বা খাবারের দোকান নেই, প্রতিটার সঙ্গে সেটা লিখে দিয়েছি।

ট্রিপটা জানান

দামটা লিখে নিন

একটা মেসেজ করুন, সব মিলিয়ে দাম WhatsApp-এ পেয়ে যাবেন, বেশিরভাগ সময় কয়েক মিনিটে। এখন টাকা দিতে হবে না, বুক করারও দরকার নেই।

আপনার কী দরকার?
কত দিনের
  • এখন টাকা নয়
  • বিরক্তিকর ফোন নয়
  • যখন খুশি বাতিল

ঘোরার গাইড

এক নজরে

কোন সময়ে ভালো
নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি। এর মধ্যে কয়েকটায় ছায়া একেবারেই নেই
কাদের জন্য ভালো
যাঁরা দীঘা আর মন্দারমণি দুবার ঘুরে ফেলেছেন

ঘোরার গাইড

জায়গাগুলো, আর কোনটা কেমন

দূরত্ব মধ্য কলকাতা থেকে রাস্তার দূরত্ব, রুট ডেটা দেখে মিলিয়ে নেওয়া।

বাওয়ালি

পুরনো জমিদার বাড়ি, উঠোন, থাম আর মন্দিরের ভাঙা অংশ নিয়ে, বজবজ ছাড়িয়ে আধ ঘণ্টা। খাওয়ার বুকিং করলে দিনে ঘোরা যায়, আর কেউ তাড়া দেয় না।

31 km কলকাতা থেকে

বুড়ুল

বজবজের কাছে হুগলির একটা বাঁক, ধারে হাঁটার রাস্তা, কয়েকটা হোমস্টে, টিকিট নেই। লোকে এক বিকেলের জন্য আসে, বাঁধের উপর বসে, ফিরে যায়। আকর্ষণ এটুকুই, আর এতেই হয়ে যায়।

42 km কলকাতা থেকে

চন্দ্রকেতুগড় (বেড়াচাঁপা)

দুই হাজার বছরের পুরনো এক শহর, মাটির ঢিবির নিচে, সঙ্গে খনা মিহিরের ঢিপি আর কাছে একটা ছোট সংগ্রহশালা। পর্যটকের জন্য প্রায় কিছুই বানানো হয়নি, তাই ফাঁকাই থাকে। আমাদের দিক থেকে সবচেয়ে কাছে: ব্যারাকপুর থেকে ৩৭ কিলোমিটার।

45 km কলকাতা থেকে

পিয়ালি আইল্যান্ড

পিয়ালি নদী যেখানে ম্যানগ্রোভে মেশে, সুন্দরবনের রাস্তায়। সবুজ একটা জায়গা, ছোট ট্যুরিস্ট লজ, ভাড়ার নৌকা আর সকালে পাখি। বেশিরভাগ লোক গদখালির দিকে ছুটতে গিয়ে এটা পুরো বাদ দিয়ে যায়।

52 km কলকাতা থেকে

গড়চুমুক

কাজের দিনে অফবিট, রবিবারে মেলা। মঙ্গল বা বুধবার এলে ৫৮ গেটের লকগেট, হরিণের ঘেরা জায়গা আর নদীর পাড় পুরোটাই আপনার। ছোট একটা খাবারের দোকান আছে, তবে জল সঙ্গে নিন।

55 km কলকাতা থেকে

টাকি

ইছামতী, ওপারে বাংলাদেশ, এক ঘণ্টার নৌকা, আর চুপচাপ ভেঙে পড়া পুরনো জমিদার বাড়ি। ব্যারাকপুর থেকেও প্রায় একই দূরত্ব, ৬৮ কিলোমিটার, তাই আমাদের দিক থেকে সবচেয়ে সস্তা দিনের ঘোরার একটা।

70 km কলকাতা থেকে

বড়ন্তি

পুরুলিয়ায় ছোট একটা জলাধার, পিছনে পাঞ্চেতের পাহাড়। দুই-তিনটে রিসর্ট, বাজার নেই, আওয়াজ নেই। পলাশের জন্য ফেব্রুয়ারিতে যান, বা শীতে জলের উপর ভোরের কুয়াশা দেখতে। এটা রাত থাকার ট্রিপ, এক দিনের নয়।

ঝিলিমিলি

বাঁকুড়া যেখানে শেষ আর জঙ্গল শুরু, ঝাড়গ্রামের দিকে। শালের জঙ্গল, কংসাবতী, রাস্তায় সুতান আর তালবেড়িয়া, আর মাঝে মাঝে রাস্তায় হাতি, ঠিক এই কারণেই এখানে অন্ধকারে গাড়ি চালানো হয় না।

234 km কলকাতা থেকে

অফবিট মানে কী ছাড়তে হয়

কম লোক মানে কম শৌচাগার, ওষুধের দোকান নেই, এটিএম নেই, আর প্রায়ই বিকেল ৩টার পর গরম খাবারও নেই। চন্দ্রকেতুগড় আর বুড়ুলে সাজানো কিছুই নেই। জল, কিছু খাবার, নিজের ওষুধ সঙ্গে নিন, আর ফোন চার্জ দেওয়ার কথা ভাববেন না। বদলে এমন জায়গা পাবেন যেখানে কেউ আপনাকে কিছু বিক্রি করতে আসে না।

এর বেশিরভাগে আমরা এমইউভি পাঠাই কেন

ফাঁকা জায়গার শেষ দুই থেকে পাঁচ কিলোমিটার সাধারণত গ্রামের রাস্তা: ইটের, খোয়ার, বা এক ফালি পিচ যার দুই পাশে গর্ত। ছোট গাড়ি শীতে পৌঁছয়, বৃষ্টির পর কষ্ট হয়। বড়ন্তি, ঝিলিমিলি আর মৌসুনির পারাপারে আমরা এমইউভি বা এসইউভি পাঠাই, সঙ্গে যে ড্রাইভার আগে ওই রাস্তা চালিয়েছে, কারণ যেখানে মিস্ত্রি নেই সেখানে গাড়ি আটকানো ছোট সমস্যা নয়।

ঘোরার গাইড

যাওয়ার আগে আমরা যা বলি

ছোট কয়েকটা কথা, যার উপর নির্ভর করে দিনটা ভালো কাটবে না ক্লান্তিতে যাবে।

যাওয়ার আগের দিন একবার জিজ্ঞেস করুন। বৃষ্টির পর গ্রামের রাস্তা বদলায়, আর ফেরি বা লকগেট মেরামতির জন্য বন্ধ থাকতে পারে, অনলাইনে কিছু লেখা থাকে না।

টাকি, পিয়ালি আর মৌসুনিতে নৌকায় বসার আগে ভাড়াটা ঠিক করে নিন, পরে নয়।

এর কোনোটাতেই অন্ধকারের পর পৌঁছনোর প্ল্যান করবেন না। আলো নেই, আর ঝিলিমিলি-বেলপাহাড়ির রাস্তায় হাতি আছে।

এখানে দূরত্ব আর সময় রুট ডেটা দেখে মিলিয়ে নেওয়া, তারপর সত্যিকারের যানজট ধরে একটু বাড়িয়ে লেখা। সময়, ফেরির সময় আর ঢোকার নিয়ম সিজন অনুযায়ী বদলায়, তাই যাওয়ার আগের দিন একবার জিজ্ঞেস করুন, সেই সপ্তাহে রাস্তা কেমন আমরা বলে দেব।

ঘোরার গাইড

এই ট্রিপের গাড়ি

আমাদের তালিকায় এই গাইডের সঙ্গে মেলে এমন ট্রিপ। গাড়ি বাড়ির সামনে থেকে ছাড়ে।

ঘোরার গাইড

এই সব এলাকা থেকে আমরা তুলি

এক দিনের ট্রিপ ভালো হয় যদি গাড়ি সকালে আপনার পাড়া থেকেই বেরোয়।

প্রশ্ন

কলকাতার কাছে অফবিট জায়গা, যেগুলো এখনও ফাঁকা নিয়ে প্রশ্ন

কলকাতার কাছে কোন অফবিট জায়গা এক দিনে হয়ে যায়?

বাওয়ালি, বুড়ুল, চন্দ্রকেতুগড়, গড়চুমুক, পিয়ালি আর টাকি সবই এক দিনের ট্রিপ। বড়ন্তি আর ঝিলিমিলি ২৩০ কিলোমিটারের বেশি, তাই অন্তত এক রাত লাগে।

বাচ্চা নিয়ে পরিবারের জন্য এই জায়গাগুলো নিরাপদ?

জায়গাগুলো শান্ত, লোকজন সাহায্য করে। ঝুঁকি মানুষের দিক থেকে নয়, বাস্তব দিক থেকে: নদীর পাড়ে রেলিং নেই, ঘাট পিছল, কাছে ডাক্তার নেই, সন্ধের পর রাস্তায় আলো নেই। বাচ্চাদের জলের ধার থেকে দূরে রাখুন, অন্ধকারের আগে ফেরা শুরু করুন, তাহলে দিনটা নিরাপদ।

এই অফবিট জায়গাগুলোয় থাকার ব্যবস্থাও আপনারা করেন?

হ্যাঁ, যেখানে বুক করার কিছু আছে: বুড়ুল আর বড়ন্তির হোমস্টে, পিয়ালি ও গড়চুমুকের কাছের ট্যুরিস্ট লজ, মৌসুনির তাঁবু। চন্দ্রকেতুগড়ে থাকার কিছু নেই, তাই ওটা এক দিনের ট্রিপ হিসেবেই সাজাই আর সেটা বলেও দিই।

তবুও ভাবছেন? তারিখটা পাঠিয়ে দিন। না পারলে সোজা বলে দেব

গাড়ি লাগবে

তারিখ বলুন, দিনটা আমরা সাজিয়ে দিই

তারিখ আর কত জন যাচ্ছেন লিখে পাঠান। কোন গাড়িতে হবে, ক’টায় বেরোনো ভালো আর পুরো দাম লিখে জানিয়ে দিই, তারপর আপনি ঠিক করবেন।