ডায়মন্ড হারবার — এক দিন
হুগলির সবচেয়ে চওড়া অংশ, পুরনো কেল্লার ভাঙা অংশ, আর জলের ধারে খাওয়া। এক দিকে দুই ঘণ্টার কম, তাই এই পাতার সবচেয়ে সহজ ঘোরা।
পুজো আর লম্বা ছুটির গাড়ি আগেই শেষ হয়ে যায়। তারিখটা এখনই বলে রাখুন।
ঘোরার গাইড
কলকাতার কাছে বেড়ানোর জায়গার বেশিরভাগ তালিকায় ৫০০ কিলোমিটার দূরের পাহাড় আর ৪০ কিলোমিটার দূরের নদীর পাড় একসঙ্গে থাকে, দুটোকেই ঘোরার জায়গা বলা হয়। এই তালিকা সাজানো দূরত্ব অনুযায়ী, প্রতিটার পাশে মধ্য কলকাতা থেকে রাস্তার দূরত্ব দেওয়া, যাতে হাতে যত সময় আছে সেই অনুযায়ী বাছতে পারেন।
ঘোরার গাইড
ঘোরার গাইড
দূরত্ব মধ্য কলকাতা থেকে রাস্তার দূরত্ব, রুট ডেটা দেখে মিলিয়ে নেওয়া।
হুগলির সবচেয়ে চওড়া অংশ, পুরনো কেল্লার ভাঙা অংশ, আর জলের ধারে খাওয়া। এক দিকে দুই ঘণ্টার কম, তাই এই পাতার সবচেয়ে সহজ ঘোরা।
রাস্তা কম, নৌকা বেশি। গাড়িতে গদখালি পর্যন্ত, তারপর খাঁড়ির ভিতর লঞ্চে সজনেখালি আর সুধন্যখালির ওয়াচটাওয়ার। এক দিনের সুন্দরবন মানে বেশিরভাগটাই যাওয়া-আসা, তাই দুই দিন রাখুন।
সবচেয়ে কাছের শান্ত সমুদ্র, পাশে হেনরি আইল্যান্ড আর ফ্রেজারগঞ্জের মাছের ঘাট। এক দিনেও হয়, তবে বালিতে চার ঘণ্টার জন্য গাড়িতে ছয় ঘণ্টা যাবে।
ব্যারাকপুরের দিক থেকে লম্বা এক দিনেই হয়, ওদিক থেকে মাত্র ১০৪ কিলোমিটার। দুই দিন থাকলে নদীর ওপারে নবদ্বীপ আর সন্ধের আরতি তাড়াহুড়ো ছাড়া হয়।
টেরাকোটা মন্দির, বালুচরি বোনা, আর ২৫ কিলোমিটার দূরে জয়পুরের জঙ্গল। দুই দিনই ঠিক, কারণ মন্দিরগুলো ছড়ানো আর দুপুরে বন্ধ থাকে।
কলাভবন, সোনাঝুরি, কোপাই আর কঙ্কালীতলা। তারাপীঠ আরও ৬০ কিলোমিটার, তাই অনেকে একই দুই দিনে একটা গাড়িতেই দুটোই সেরে নেন।
বালির উপরেই হোটেল, ভালো রাস্তায় তিন ঘণ্টা, আর কম ভিড় চাইলে ২০ কিলোমিটার দূরে তাজপুর। অক্টোবর থেকে ছুটির দিনের ঘর আগেই চলে যায়।
বাংলার সবচেয়ে ভিড়ের সমুদ্র শহর, বেড়াতে আসা লোকের জন্য সবই তৈরি: হোটেল, খাওয়া, মেরিন অ্যাকোয়ারিয়াম, নতুন জগন্নাথ মন্দির। যে পরিবার নিজে কিছু গোছাতে চায় না, তাদের জন্য ভালো।
শালের জঙ্গল, রাজবাড়ি, চিল্কিগড় আর ডুলুং। সঙ্গে বেলপাহাড়ি আর ঘাটশিলা জুড়লে আরামসে তিন দিনের একটা ঘোরা হয়ে যায়।
পশ্চিমের আসল পাহাড়: অযোধ্যা টপ, বামনি আর তুর্গা ফলস, মুরগুমা, বড়ন্তি, গড়পঞ্চকোট। দুই দিনে হয় না। ফেব্রুয়ারিতে পলাশের সময় বা শীতের ঠান্ডায় যান।
একটা সহজ নিয়ম, যেটা আমাদের কখনও ভুল হয়নি: ৯০ কিলোমিটার পর্যন্ত এক দিনের ট্রিপ, ৯০ থেকে ২০০ কিলোমিটারে এক রাত লাগে, ৩০০ কিলোমিটারের বেশি হলে দুই রাত, না হলে পুরোটা শুধু গাড়ি চড়াই হয়। পুরুলিয়া আর দীঘার ক্ষেত্রে লোকে প্রতি সিজনেই এই নিয়ম ভাঙে, আর ফিরে এসে বলে কিছুই দেখা হল না।
সুন্দরবন নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারিতে সবচেয়ে ভালো, পশ্চিমের পাহাড় ফেব্রুয়ারিতে পলাশের জন্য আর শীতে ঠান্ডার জন্য, সমুদ্র অক্টোবর থেকে মার্চ, মন্দিরের শহর সারা বছর। জুলাই-অগাস্টে সমুদ্র উত্তাল আর বিচে গাড়ি চালানো বিপদের, পুরুলিয়া-ঝাড়গ্রামে জঙ্গলের রাস্তা পিছল। ওই সময়ে আমরা বদলে মায়াপুর, বিষ্ণুপুর বা শান্তিনিকেতন বলি।
ঘোরার গাইড
ছোট কয়েকটা কথা, যার উপর নির্ভর করে দিনটা ভালো কাটবে না ক্লান্তিতে যাবে।
এখানের দূরত্ব মধ্য কলকাতা থেকে রাস্তার দূরত্ব। ব্যারাকপুর, সোদপুর বা বারাসত থেকে মায়াপুর আর চন্দ্রকেতুগড় আরও কাছে, আর দীঘার দিকের সব কিছু প্রায় ১৩ কিলোমিটার বেশি।
২০০ কিলোমিটারের বেশি হলে তিন জন হলেও এমইউভি বা এসইউভি নিন। ছোট গাড়িতে ছয় ঘণ্টাটাই ট্রিপের সেই অংশ যেটা মানুষ খারাপ ভাবে মনে রাখে।
মন্দির দুপুরে বন্ধ থাকে, সংগ্রহশালা সপ্তাহে একদিন বন্ধ, জঙ্গলের গেট সূর্য ডোবার আগে বন্ধ হয়। প্ল্যান পাকা করার আগে আপনার তারিখের সময়গুলো জিজ্ঞেস করে নিন।
এখানে দূরত্ব আর সময় রুট ডেটা দেখে মিলিয়ে নেওয়া, তারপর সত্যিকারের যানজট ধরে একটু বাড়িয়ে লেখা। সময়, ফেরির সময় আর ঢোকার নিয়ম সিজন অনুযায়ী বদলায়, তাই যাওয়ার আগের দিন একবার জিজ্ঞেস করুন, সেই সপ্তাহে রাস্তা কেমন আমরা বলে দেব।
ঘোরার গাইড
আমাদের তালিকায় এই গাইডের সঙ্গে মেলে এমন ট্রিপ। গাড়ি বাড়ির সামনে থেকে ছাড়ে।
ঘোরার গাইড
এক দিনের ট্রিপ ভালো হয় যদি গাড়ি সকালে আপনার পাড়া থেকেই বেরোয়।
প্রশ্ন
৪৮ কিলোমিটারের ডায়মন্ড হারবার, বা ৩১ কিলোমিটারের বাওয়ালি, কারণ কেউ ক্লান্ত হওয়ার আগেই অন্ধকারের মধ্যে ফেরা হয়ে যায়। দল বেঁধে জল আর ফাঁকা মাঠ চাইলে ৫৫ কিলোমিটারের গড়চুমুক।
মধ্য কলকাতা থেকে প্রায় ১৮০ কিলোমিটার, ব্যারাকপুর থেকে প্রায় ১৯৩ কিলোমিটার, একবার চায়ের জন্য দাঁড়িয়ে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা লাগে। মন্দারমণি একটু কাছে, ১৬৮ কিলোমিটার, আর তাজপুর ১৭১ কিলোমিটার।
হ্যাঁ। তারিখ, কত জন আর মোটামুটি কী দেখতে চান বলুন। আমরা দিন ধরে ধরে প্ল্যান পাঠাই, সঙ্গে হোটেল, রাস্তার সময় আর কোনটা বাদ দিলেই ভালো, আর পুরোটার একটা লেখা দাম।
তবুও ভাবছেন? তারিখটা পাঠিয়ে দিন। না পারলে সোজা বলে দেব
ঘোরার গাইড
গাড়ি লাগবে
তারিখ আর কত জন যাচ্ছেন লিখে পাঠান। কোন গাড়িতে হবে, ক’টায় বেরোনো ভালো আর পুরো দাম লিখে জানিয়ে দিই, তারপর আপনি ঠিক করবেন।