মৌসুনি দ্বীপ
বালির উপর তাঁবু, কংক্রিট নেই, একদিকে সমুদ্র আর একদিকে নদী। কম বয়সী দল আর দম্পতিদের জন্য ভালো। যাঁদের লিফট, গিজার বা কাছে ডাক্তার দরকার, তাঁদের জন্য নয়।
পুজো আর লম্বা ছুটির গাড়ি আগেই শেষ হয়ে যায়। তারিখটা এখনই বলে রাখুন।
ঘোরার গাইড
কলকাতার কাছের সব সমুদ্রই একই বঙ্গোপসাগর, কিন্তু ট্রিপ একরকম নয়। বকখালি আর মৌসুনি সুন্দরবনের দিকে, একটু বন্য আর অগোছালো লাগে। মন্দারমণি, তাজপুর আর দীঘা মেদিনীপুরের দিকে, বালির উপরেই হোটেল। রাস্তার দূরত্ব অনুযায়ী সাজানো হল, সঙ্গে কোনটা আসলে কী কাজে ভালো।
ঘোরার গাইড
ঘোরার গাইড
দূরত্ব মধ্য কলকাতা থেকে রাস্তার দূরত্ব, রুট ডেটা দেখে মিলিয়ে নেওয়া।
বালির উপর তাঁবু, কংক্রিট নেই, একদিকে সমুদ্র আর একদিকে নদী। কম বয়সী দল আর দম্পতিদের জন্য ভালো। যাঁদের লিফট, গিজার বা কাছে ডাক্তার দরকার, তাঁদের জন্য নয়।
বকখালির পাশে ম্যানগ্রোভের দ্বীপ, ওয়াচটাওয়ার, মাছের ভেড়ি আর প্রায় ফাঁকা সমুদ্র। বকখালির সঙ্গে সকালে জুড়ে নিন, দুটোর মধ্যে ১৪ কিলোমিটার।
সবচেয়ে কাছের ঠিকঠাক সমুদ্র, চওড়া আর সমান, এক কিলোমিটার হাঁটা যায়। পাশে ফ্রেজারগঞ্জের ঘাটে মাছের নৌকা। সাধারণ হোটেল, রাতের হুল্লোড় নেই, বাচ্চাদের নিয়ে ভালো।
বালির উপরেই হোটেল, ভাটার সময় লাল কাঁকড়া, আর এই তালিকায় সবচেয়ে সহজে বুক করা যায় এমন সমুদ্র। রাস্তা পুরোটাই ভালো, তাই কলকাতার চেনা উইকএন্ড এটাই।
দীঘা থেকে কুড়ি কিলোমিটার, অনেক শান্ত, বালির পিছনে ঝাউবন। মন্দারমণির মতোই সমুদ্র, লোক এক-তৃতীয়াংশ। বড় হোটেল কম, তাই আগে বুক করুন।
ওল্ড দীঘা আর নিউ দীঘা, মেরিন অ্যাকোয়ারিয়াম, সায়েন্স সেন্টার, নতুন জগন্নাথ মন্দির আর শত শত হোটেল। ভিড়, থাকার খরচ কম, বড় পরিবারের প্রথম সমুদ্র ট্রিপের জন্য সবচেয়ে সহজ।
যে সমুদ্রে ভাটার সময় জল পাঁচ কিলোমিটার পিছিয়ে যায়, সমুদ্রের তলায় হাঁটা যায়। দীঘা ছাড়িয়ে আরও আটানব্বই কিলোমিটার, তাই বেশিরভাগ লোক দীঘা বা পুরীর ট্রিপের সঙ্গে জুড়ে নেন।
বাচ্চা বা দাদু-দিদিমা নিয়ে প্রথম ট্রিপ: দীঘা, কারণ সব কাছে আর ডাক্তার আছে। দুই দিন শান্তিতে: তাজপুর বা বকখালি। বন্ধুরা রাত জেগে জলের ধারে বসতে চাইলে: মৌসুনি। এক দিনে গিয়ে ফেরা: শুধু বকখালিতেই হয়, তাতেও বালিতে চার ঘণ্টার জন্য গাড়িতে ছয় ঘণ্টা।
জোয়ারের সময় মন্দারমণির বালিতে গাড়ি বা বাইক চালাবেন না, হোটেল যা-ই ব্যবস্থা করে দিক। মৌসুনি বা বকখালিতে জোয়ার আসার সময় হাঁটুর বেশি জলে নামবেন না, আর জোয়ার-ভাটার সময়টা হোটেলের কাউন্টারে জেনে নিন, আন্দাজে নয়। জুন থেকে সেপ্টেম্বরে এখানকার সমুদ্র সত্যিই বিপজ্জনক, আর তখনই বেশিরভাগ দুর্ঘটনা হয়।
ঘোরার গাইড
ছোট কয়েকটা কথা, যার উপর নির্ভর করে দিনটা ভালো কাটবে না ক্লান্তিতে যাবে।
ব্যারাকপুর, সোদপুর বা বারাসত থেকে এই দূরত্বগুলোয় প্রায় ১৩ কিলোমিটার যোগ করুন আর আধ ঘণ্টা আগে বেরোন।
অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারির যে কোনো ছুটিতে গাড়ির আগে ঘর বুক করুন। হোটেলই আগে শেষ হয়।
মৌসুনির জন্য মাথাপিছু একটা ছোট ব্যাগ রাখুন, কারণ শেষটায় পার হওয়া আর হাঁটা আছে।
এখানে দূরত্ব আর সময় রুট ডেটা দেখে মিলিয়ে নেওয়া, তারপর সত্যিকারের যানজট ধরে একটু বাড়িয়ে লেখা। সময়, ফেরির সময় আর ঢোকার নিয়ম সিজন অনুযায়ী বদলায়, তাই যাওয়ার আগের দিন একবার জিজ্ঞেস করুন, সেই সপ্তাহে রাস্তা কেমন আমরা বলে দেব।
ঘোরার গাইড
আমাদের তালিকায় এই গাইডের সঙ্গে মেলে এমন ট্রিপ। গাড়ি বাড়ির সামনে থেকে ছাড়ে।
ঘোরার গাইড
এক দিনের ট্রিপ ভালো হয় যদি গাড়ি সকালে আপনার পাড়া থেকেই বেরোয়।
প্রশ্ন
রাস্তায় মৌসুনি দ্বীপ প্রায় ১১১ কিলোমিটার আর বকখালি প্রায় ১২২ কিলোমিটার। ঠিকঠাক হোটেল আর চওড়া হাঁটার মতো সমুদ্র নিয়ে সবচেয়ে কাছের হল বকখালি, আর ওখান থেকে হেনরি আইল্যান্ড ১৪ কিলোমিটার।
রাস্তায় প্রায় ৩০ কিলোমিটার, মোটামুটি ৪৫ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা। মাঝখানে তাজপুর, দীঘা থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার, তাই একটা গাড়িতে দুই দিনে তিনটেই হয়ে যায়।
তবুও ভাবছেন? তারিখটা পাঠিয়ে দিন। না পারলে সোজা বলে দেব
ঘোরার গাইড
গাড়ি লাগবে
তারিখ আর কত জন যাচ্ছেন লিখে পাঠান। কোন গাড়িতে হবে, ক’টায় বেরোনো ভালো আর পুরো দাম লিখে জানিয়ে দিই, তারপর আপনি ঠিক করবেন।